Saturday, February 23, 2013

মায়া টিউটোরিয়াল ১ - ইউজার ইন্টারফেস (UI) পরিচিতি

মায়াতে কাজ শুরু করার আগে দেখে নেয়া যাক এর ইন্টারফেসটি। অনেকে বলেন এর ইন্টারফেস টি নাকি খুব কনফিউজিং। একটা কথা মনে রাখবেন যে এই সফটওয়্যারটির জনপ্রিয়তার একটি বড় কারন এর বুদ্ধিদিপ্ত ইউজার ইন্টারফেস (UI)। এর ইন্টারফেসটি আপনি একদম নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে পারবেন এবং যেভাবে খুশি। তাহলে এবার শুরু করা যাক।

যখন প্রথম বারের মতো মায়ার মেইন উইন্ডো ওপেন হয় তখন তার সাথে একটি অতিরিক্ত ছোট উইন্ডো ওপেন হয়। এখান থেকে আপনি কিছু ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন যাতে করে আপনি দ্রুত সামান্য কিছু জিনিস শিখে নিতে পারবেন যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
টিউটোরিয়াল গুলো দেখে ফেলুন। আপনি এই ভিডিও গুলতে যা শিখবেন তা আমি এখানে দেখাব না। এটা খুব বেশি সময় নিবে না। যখন আপনি টিউটোরিয়ালগুলি দেখা শেষ করেছেন তখন আপনি জানেন কিভাবে কোন অবজেক্টকে Move, Rotate অথবা Scale করতে হয়। এবং এও শিখেছেন যে কি করে আপনার দেখবার ক্যামেরাটি Zoom, Move ও Rotate করা যায়। এবার এই ছোট উইন্ডো টি ক্লোজ করুন। এবার সামনে দেখতে পাবেন একটি বড় ত্রিমাত্রিক প্যানেল যেখানে রয়েছে একটি গ্রাফ পেপারের মতো ছক (গ্রিড)।
এটিই হল মূল প্যানেল যেখানে আপনি ত্রিমাত্রিক ভাবে কোন বস্তুকে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখতে পাবেন, ক্যামেরা নেভিগেট করতে পারবেন আরও অনেক কিছু। একে বলে ভিউপোর্ট। এবার ভিউপোর্টের একটু উপরে তাকান।
 এই অংশটিকে বলে শেল্ফ। এখানে অনেক গুলো ট্যাব রয়েছে। প্রতিটি ট্যাবে টুল রয়েছে। চিত্রের মতো আপনি Polygon ট্যাব টা ওপেন করুন।  এবার এই ট্যাবে প্রথম টুলটি সিলেক্ট করুন। এটি একটি স্ফেয়ার টুল। এর মাধ্যমে একটি সাধারণ স্ফেয়ার তৈরি করা যায়। এবার আপনার মাউসটি নিয়ে ভিউপোর্টে ড্রাগ করুন।
আপনি আপনার ড্রাগ অনুযায়ী ছোট বড় স্ফেয়ার পাবেন। শেল্ফে স্ফেয়ার টুলের পাশে রয়েছে কিউব, সিলিন্ডার, কোণ, প্লেন, টোরাস, পিরামিড ও পাইপ। এগুলোও একইভাবে ট্রাই করে দেখুন। এবার LMB (Left Mouse Button) দিয়ে স্ফেয়ারটিকে সিলেক্ট করুন। এবার Delete বাটন চাপুন। স্ফেয়ারটি ডিলিট হয়ে যাবে।
মায়ার একটি বড় ফিচার হল একই কাজ অনেক উপায়ে করতে পারার সুবিধা। আমরা এতক্ষন যেভাবে স্ফেয়ারটি তৈরি করলাম তা আরও এক ভাবে তৈরি করতে পারি। এর জন্য চিত্রের মতো উপরে পলিগন অপশনটি সিলেক্ট করুন।
এবার চিত্রের মতো Create > Polygon primitives > Sphere সিলেক্ট করুন।

 এবার আগের মতই ড্রাগ করুন। দেখুন এবার আপনি ঠিক ভিন্ন উপায়ে একই কাজটি করলেন। এবার আরও একটি উপায়ে এটি করতে পারেন। এর জন্য আপনি আপনার মাউসটি ভিউপোর্ট এর উপর নিয়ে গিয়ে Space হোল্ড করুন। দেখবেন যে অনেক গুলো অপশন এসেছে।

এবার চিত্রের মতো Create > Polygon primitives > Sphere সিলেক্ট করুন। এভাবে আপনি একই কাজ ঠিক তিন ভাবে করলেন। এছারা আপনার মায়ার শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ MEL (Maya Embeded Language) জানা থাকলে অনেক খাটা খাটনির কাজ বেশ সহজেই করতে পারবেন। আমি ভবিষ্যতে এডভান্সড টিউটোরিয়াল হিসেবে MEL শেখাবো। এতোক্ষন টিউটোরিয়ালটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পরের টিউটোরিয়ালগুলো দেখতে ভুলবেন না।

থ্রিডি বিষয়ক বাংলা সাইটে স্বাগতম

আমার থ্রিডি বিষয়ক বাংলা সাইটে স্বাগতম । এ ব্লগের লেখালেখি থ্রিডি গ্রাফিক্স বিষয়ক। থ্রিডি আমাদের দেশের মোটামুটি পুরনো বিষয়। অনেকেই এই বিষয়ে কাজ করে থাকেন এবং অনেক কাজ আমরা দেখেছিও। কিন্তু ভাল কাজের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যাই হোক এই থ্রিডির জগতে প্রবেশ করতে আপনাকে প্রথমে যা করতে হবে তা হল একটা থ্রিডি প্রোগ্রাম বাছাই করা। আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় থ্রিডি প্রোগ্রামটি হল থ্রিডিএস ম্যাক্স। শুধু বাংলাদেশে কেনো, এই প্রোগ্রামটি সারা বিশ্বজুরেই সর্বাধিক প্রচলিত। কিন্তু আপনি কোন প্রোগ্রামটি বেঁছে নিবেন তা নির্ভর করে আপনি কি ধরনের কাজ করতে চান তার উপর। সঠিক প্রোগ্রামটি বাছাই করা বিষয়ক তর্ক যুদ্ধের এই টপিকটি খুব পুরনো ও বিরক্তিকর। সেই হিসেবে বলতে হয় "Every piece of software is superior". শুধু দরকার দক্ষতার শাথে প্রোগ্রামটি ব্যাবহার করার ইচ্ছা ও মনোবল। তাহলেই যে কোনটি দিয়েই আপনি আপনার নিজস্ব কাজ দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন। আমি যখন থ্রিডি জগতে পা দেব ভাবলাম আমি তখন অনলাইনে অনেক ফোরাম ঘেঁটেছি ও ঠিক করেছি কোন প্রোগ্রামটি আমার চাহিদাটি সঠিকভাবে পুরন করতে সক্ষম। অনেকে আগ্রহী আর্কিটেকচারাল ভিজুয়ালাইজেশনে, কেঊ মেডিকেল ইলাসট্রেশনে আবার কেউবা ইন্টারটেইনমেন্ট-এ। আমি আগ্রহি ছিলাম ইন্টারটেইনমেন্ট-এ তাই আমি অটোডেস্কের মায়াকেই বেঁছে নিয়েছিলাম। মায়া কেন এ ক্ষেত্রে ভাল তা আমি অন্য একদিন বলবো। আমি এতদিনে যা যা জেনেছি বা যা জানছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

থ্রিডিতে কাজ করা মানে যে আপনি কেবল আপনার মূল থ্রিডি প্রোগ্রাম নিয়েই কাজ করে যাবেন তা নয়। বরং আপনাকে আরও কিছু প্রোগ্রাম নিয়ে ও কাজ করতে হবে যা আপনার মূল প্রোগ্রামের সাথে সমন্বয় সাধন করবে। একে বলে পাইপলাইন । মায়ার সাথে কি করে এই সকল প্রগ্রামে পাইপলাইন দিয়ে কাজ করতে হয় তাও আমি শেয়ার করব। আপনার কাজ টি যদি হয় একটি পরিপূর্ণ এনিমেশন তা হলে ধাপে ধাপে আপনাকে কাজ করে এগুতে হবে। এই ধাপ গুলোর কোনও একটিকেও এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। ধাপ গুলো হচ্ছে মডেলিং, সারফেসিং, টেক্সারিং, শেডিং, রিগিং ও এনিমেটিং। সবগুলো ধাপই আমি আপনাদের দেখাব।

যেহেতু এটি একটি ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল সাইট তাই কিছু নিয়ম থাকবে যা আমি মেনে চলবো ও কিছু আপনারাও মেনে চলবেন। নিয়ম গুলি হচ্ছেঃ
১. কোনও টিউটোরিয়ালে বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্টে তা বলুন। আমি উত্তর দেবার চেষ্টা করবো বা অন্যেরা সাহায্য করবেন।
২. আপনি টিউটোরিয়ালটি বুঝে থাকলে তা লিখুন যাতে আমি নিয়মিত শিক্ষানবীশদের সংখ্যা বুঝতে পারি। শিক্ষানবীশদের সংখ্যা বাড়লে আমি ভিডিও টিউটোরিয়ালের দিকে নজর দিবো।
৩. কমেন্টে কোনো পাইরেসি এর কথা উল্লেখ করবেন না।
৪. অপ্রাসঙ্গিক বা পক্ষাঘাতমূলোক কমেন্ট করবেন না।
৫. আমি শুধু এই সাইটের জন্য একটি ফেসবুক পেজ খুলবো যেখানে আপনারা আপনাদের আনুশীলন মূলক কাজ গুলোর স্ক্রিনশট আপলোড করবেন। নতুন টিউটোরিয়াল অ্যাড করা হলে তা প্রথমে এই ফেসবুক পেজ এ জানিয়ে দেয়া হবে। আপনারা সেখানে কোনো ধরনের লিঙ্ক এর জন্য রিকোয়েস্ট করতে পারেন। পেজটি
 রয়েছে এখানে
আমাদের সবার যাত্রা শুভ হোক এই কামনায় শেষ করছি। ধন্যবাদ।